খুলনা, বাংলাদেশ | ১লা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  গোমস্তাপুরে ৭ লিটার চোলাইমদসহ নারী গ্রেফতার
  ঈদগাঁও ৩নং ওয়ার্ড যুব বিভাগের কমিটি গঠন উপলক্ষে আলোচনা সভা
  মা ও শিশু পুষ্টি নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা কেসিসি’র দায়িত্ব
  ডুমুরিয়ায় গ্রীন ফোর্সের উপজেলা কমিটি, আহ্বায়ক ফয়সাল ও সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর
  ‎ডুমুরিয়ায় তিন বিলের পানি নিষ্কাশনে স্লুইস গেটের পলি অপসারণ স্বেচ্ছাশ্রমে
  কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
  মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের হাতে ফুটবল বিতরণ করলেন যুবনেতা শেখ হুমায়ূন কবির
  লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি সফল করতে নিরাপদ খুলনা চাই-এর প্রস্তুতি সভা
  অসুস্থ মায়ের সুস্থতা কামনায় সবার কাছে দোয়া চাইলেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহাগ
  ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের উন্নয়নের প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোল্লা আবরার হোসেন সৈকতের দোয়া ও সমর্থন কামনা

ঈদগাঁওতে মোবাইলের যুগে গ্রাম্য চা-দোকানের রসিক আড্ডা এখন শুধুই স্মৃতি

[ccfic]

এম আবু হেনা সাগর,ঈদগাঁও

ফেলে আসা সেই সোনালী অতীতে গ্রাম্য চায়ের দোকান ছিল তর্ক- বির্তকেরই আড্ডাস্থল (মিনি সংসদ) নামে পরিচিত। এটি এখন শুধুই স্মৃতি পাতায় বন্দি। যেখানে হরহামেশা চায়ের চুমুকেই বিভিন্ন বিষয়ের আলোকে তর্কাতর্কি থাকতোই। দিন বদল তথা মোবাইলের যুগে সেসব মধুমাখা স্মৃতি হয়ত খুঁজলেও পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়,একসময়ে গ্রামীন জনপদে চায়ের দোকানের ছড়াছড়ি ছিলো। সেই তুলনায় এখন অনেক কমে গেছে গ্রাম্য চায়ের দোকান। এ পাড়ালি দোকানে সবসময় জমজমাট থাকত লোকজনে। মুখরিত থাকতো গ্রাম্য দোকানপাঠ। ভোর হতে না হতে চুলায় আগুন,কেটলিতে যেন চায়ের উষ্ণতা। আশপাশে জড়ো হওয়া মানুষের কোলাহল। দোকান শুধু চা বিক্রির জায়গা নয়, এটি গ্রামের প্রাণকেন্দ্র,সাথে আলোচনার সংসদ বটে। পড়ন্ত বিকেলে দিনশেষে ক্লান্ত চাষি,ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী,দিনমজুর বা বেকার যুবকরা গ্রাম্য চা- দোকানে জড়ো হতো। নানা তথ্যের আদান এবং প্রদান এখানে হরহামেশাই চলতো। জাতীয় বা রাজনৈতিক পযার্য়ে নতুন কোন কিছুই ঘটলেই সেটি নিয়েই গ্রাম্য চায়ের দোকান (মিনি সংসদ) রশি টানাটানির মতো পরিবেশ সৃষ্টি হত। মুহুতে দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়তো। পূর্বেকার দিনের মুরব্বিদের রসিক আড্ডা রাত পযন্ত চলতো। বিশেষ করে জাতীয়,স্থানীয় নির্বাচনকালীন গ্রাম্য চায়ের সমুহ কোলাহলে মুখরিত থাকতো। মুখে পছন্দের প্রার্থীকে জিতিয়ে দেয়া হত রসিকতায়।পূর্বেকার সময়ে চায়ের চুমুকে গ্রাম্য মুরব্বিদের তর্ক-বির্তকের স্মৃতি মানসপটে ভেসে বেড়ায়। আরো জানা যায়, কিন্তু চায়ের দোকান কেবল আড্ডার জায়গা নয়,এটি এমন এক মৃত্তিকা, যেখানে সত্যের বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার আগেই কল্পনার চারা গজিয়ে ফেলে। গ্রামের সাধারণ মানুষ, যাদের অনেকেই স্বল্পশিক্ষিত, অন্যের মুখ থেকে শোনা ছোট ঘটনাকে রবারের মত টেনে লম্বা করতো। এখন সেই দিন আর নেই। পাড়া মহল্লায়ও প্রায় প্রতিটি বাড়ীঘরে টেলিভিশন বা হাতের মুঠোয় ইন্টারনেট মাধ্যমে জানতে পারেন সবকিছু। মুরব্বি আবদু সালাম জানান, দিন পাল্টে গেছে- পূর্বেকার সময়ের সে পুরনো গল্প, রসিক আড্ডা, চা-দোকানে গরম রং চায়ের চুমুকে মুরব্বিদের তর্ক-বির্তকের দিন শেষ। এখন ইন্টারনেট এবং মোবাইল যুগ। ফেলে আসা দিন স্মৃতি হয়ে জমা আছে অনকের মাঝে।প্রবীণ ব্যাক্তি আলম জানান, আগেকার দিনের পাড়া মহল্লার দোকানে গুলোতে জমতো হরেক রকমের খোশগল্প। নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা নিয়ে রসিক আড্ডা। এখন প্রতিটি জনের কাছে ইন্টার নেট ভিত্তিক মোবাইল। পুরনো পরিবেশ কাটিয়ে এবার নতুনত্বে পথচলা। কালু নামের এক ব্যাক্তি জানান, অতীতে গ্রামের চায়ের দোকানে ছায়াছবির দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতো রসিক প্রিয় লোকজন। ফাঁকে চলতো স্থানীয় মুরব্বিদের আড্ডা। এখন আর চোখে পড়েনা সে মধুর দিন।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT